যন্ত্র কিনতে যাচ্ছেন, অথবা যন্ত্র আছে কিন্তু সন্দেহ হচ্ছে যে সে যা আয় করে তার চেয়ে খরচ বেশি। তাহলে ভারী যন্ত্রপাতির ঘণ্টা প্রতি খরচ কী কী নিয়ে গড়া, তা এখানে তিন ভাগে সাজানো আছে। নিজের ইনভয়েস আর লগ থেকে একটা সূত্র পূরণ করলেই দেখবেন, কাজ কম থাকা একটা মাস ঘণ্টার হিসাবে কী করে।
শুধু কেনার দামই কি যন্ত্রের পুরো খরচ?
কেনার দাম একবারই দিতে হয়। কিন্তু যন্ত্রটা যতদিন আছে, প্রতি মাসে আর যতক্ষণ চলে, প্রতি ঘণ্টায় তার পেছনে টাকা যায়। শুধু দামের ট্যাগ মিলিয়ে কিনলে এমন যন্ত্র আসতে পারে, যেটা কিনতে সস্তা কিন্তু চালু রাখতে দামি।
একই ধরনের দুটি যন্ত্রেও জ্বালানির খরচ, ক্ষয়ে যাওয়া অংশের আয়ু, মেরামতের সহজতা আর খুচরা যন্ত্রাংশ আসার গতি আলাদা হতে পারে। দামের কোটেশনে এসবের কিছুই দেখা যায় না।
এর সমাধান একটা খরচের মডেল। প্রতিটি খরচ লিখুন আর একটাই প্রশ্ন করুন: এক ঘণ্টা কাজ করাতে আমার আসলে কত লাগছে?
যন্ত্র কাজ করুক বা না করুক, কোন কোন খরচ চলতেই থাকে?
এগুলো মালিকানা খরচ। যন্ত্র দাঁড়িয়ে থাকলেও এগুলো চলে:
- আটকে থাকা পুঁজি বা ফাইন্যান্সের খরচ। যন্ত্রে যে টাকা ঢেলেছেন, তা অন্য কাজে লাগানো যায় না। ধার করে কিনলে প্রতি মাসে ফাইন্যান্সের খরচ চলে।
- বিমা। আপনার যন্ত্র আর সাইটের জন্য কোন কভারেজ লাগবে, বিমা কোম্পানিকে জিজ্ঞাসা করুন।
- নিবন্ধন বা পরিদর্শন ফি, যেখানে প্রযোজ্য। কোনটা লাগবে, তা যন্ত্রের ধরন আর সাইটের মালিকের ওপর নির্ভর করে। সাপ্লায়ার, বিমা কোম্পানি ও ক্লায়েন্টের কাছে নিশ্চিত হয়ে নিন।
- পার্কিং বা ইয়ার্ডের জায়গা। এক কাজ শেষ হয়ে অন্য কাজ ধরার মাঝেও যন্ত্রকে নিরাপদ জায়গায় রাখতে হয়।
- সময়ের সঙ্গে দাম কমে যাওয়া। যন্ত্রের দাম সাধারণত প্রতি বছর কমে। কোনো বিল আসে না, তবু এটা সত্যিকারের খরচ।
ফাইন্যান্স নিয়ে প্রশ্নগুলোর জন্য দেখুন যন্ত্র কেনা: নগদ, ফাইন্যান্স না ভাড়া।
কোন কোন খরচ প্রতি ঘণ্টার কাজের সঙ্গে বাড়ে?
এগুলো চালানোর খরচ। যন্ত্র না চললে এর বেশির ভাগই শূন্যের কাছাকাছি থাকে:
- জ্বালানি। কতটা লাগে তা নির্ভর করে লোড আর অলস চলার সময়ের ওপর, শুধু ইঞ্জিনের আকারে নয়। অলস বা হালকা লোডে চলা যন্ত্র কাজ না করেই জ্বালানি পোড়ায়।
- ইঞ্জিন ও হাইড্রোলিক তেল, আর ফিল্টার। সাধারণত কাজের ঘণ্টা ধরে বদলানো হয়। প্রস্তুতকারক ক্যালেন্ডারের সময়সীমা দিলে যেটা আগে আসে সেটা ধরুন। ঘণ্টা বেশি মানে বদলানোও বেশি।
- ক্ষয়ে যাওয়া অংশ। যেমন ট্র্যাক বা টায়ার, কাটার এজ, দাঁত আর ব্রেকের অংশ। কাজের সঙ্গে ক্ষয় হয়, ক্ষয় হলে বদলাতে হয়।
- মেরামত। মোট ঘণ্টা বেশি হলে সাধারণত কম ঘণ্টার যন্ত্রের চেয়ে মেরামতও বেশি লাগে।
- অপারেটর। ঘণ্টা বা দিন ধরে মজুরি দিলে ঘণ্টার সঙ্গে সেটাও বাড়ে। মাসিক নির্দিষ্ট বেতন হলে মজুরিটা মালিকানা ভাগে ধরুন, কারণ যন্ত্র বসে থাকলেও তা চলে।
প্রতিবার তেল ভরার সময় কত লিটার ভরলেন আর কত ঘণ্টা কাজ হলো, তা লিখে রাখুন। চালানোর খরচ ঘণ্টা প্রতি দেখতে প্রতিটিকে সংশ্লিষ্ট ঘণ্টা দিয়ে ভাগ করুন:
- ঘণ্টা প্রতি জ্বালানি = ব্যবহৃত লিটার ÷ কাজের ঘণ্টা, গুণ লিটার প্রতি আপনার দেওয়া দাম।
- ঘণ্টা প্রতি ক্ষয়ে যাওয়া অংশ = অংশটির খরচ ÷ সেটা যত ঘণ্টা টিকেছে।
- ঘণ্টা প্রতি সার্ভিস = সার্ভিসের ইনভয়েস ÷ দুই সার্ভিসের মাঝের ঘণ্টা।
এই ঘণ্টা প্রতি অঙ্কগুলো যোগ করলে পাবেন B ÷ H, অর্থাৎ প্রতি কর্মঘণ্টায় চালানোর খরচের অংশ।
মালিকেরা কোন লুকানো খরচগুলো ভুলে যান?
লুকানো খরচ যন্ত্রের দামে বা সার্ভিসের ইনভয়েসে দেখা যায় না। তবু এগুলো সত্যিকারের খরচ:
- সাইটে আনা-নেওয়ার পরিবহন। যে যন্ত্র ঘনঘন জায়গা বদলায়, তার জন্য বারবার ট্রেলার বা লো-লোডার ভাড়া দিতে হয়।
- বসে থাকার সময় (ডাউনটাইম)। যন্ত্রাংশ বা মেরামতের অপেক্ষায় যন্ত্র আয় করে না, আর এতে H আগেই কমে যায়। C-তে শুধু ওই কারণে হাত থেকে যে নগদ গেছে তা যোগ করুন, যেমন বদলি যন্ত্র ভাড়া বা জরুরি যন্ত্রাংশের মালবাহী খরচ।
- ব্যবস্থাপনার সময়। কাউকে যন্ত্র বুক করতে, দেখতে, সময়সূচি করতে আর তদারক করতে হয়। সেই সময়েরও দাম আছে।
কেনার আগে সাপ্লায়ারকে জিজ্ঞাসা করুন, আপনার শহরে এই মডেলের যন্ত্রাংশ সাধারণত আসতে কত সময় লাগে। সেই অপেক্ষা H কমিয়ে দেয়।
প্রতি কর্মঘণ্টার খরচ কীভাবে বের করব?
একটা সময় বেছে নিন, যেমন এক বছর। ওই সময়ের তিন ভাগের খরচ যোগ করুন, তারপর যন্ত্রটা আসলে যত ঘণ্টা কাজ করেছে তা দিয়ে ভাগ করুন।
| ধাপ | কী লিখবেন |
|---|---|
| 1 | বছরের মালিকানা খরচ, নাম দিন A |
| 2 | বছরের চালানোর খরচ, নাম দিন B |
| 3 | বছরের লুকানো খরচ (পরিবহন, ডাউনটাইমের কারণে খরচ হওয়া নগদ, ব্যবস্থাপনার সময়), নাম দিন C |
| 4 | বছরে আসলে কাজ হওয়া ঘণ্টা, নাম দিন H |
| 5 | প্রতি কর্মঘণ্টার খরচ = (A + B + C) ÷ H |
সংখ্যাগুলো কোথা থেকে নেবেন। A নিন ফাইন্যান্সের স্টেটমেন্ট, বিমার ইনভয়েস ও ইয়ার্ডের খরচ থেকে, সঙ্গে অপারেটরের নির্দিষ্ট বেতন থাকলে সেটাও।
দাম কমে যাওয়ার কোনো ইনভয়েস নেই। হিসাব করুন এভাবে: কেনার দাম থেকে বিক্রির সময় যে দাম পাবেন বলে ভাবছেন তা বাদ দিন, তারপর যত বছর রাখবেন তা দিয়ে ভাগ করুন। একই বয়সের একই ধরনের যন্ত্র কত দামে বিক্রি হয়, ডিলার বা ব্যবহৃত যন্ত্রের সাপ্লায়ারকে জিজ্ঞাসা করুন, আর উত্তরটাকে অনুমান হিসেবে ধরুন। নগদে কিনলে ওই টাকা অন্যত্র লাগালে যে সুদ আসত, সেটা পুঁজির খরচ হিসেবে যোগ করতে পারেন। না করলে সেটা লিখে রাখুন।
B নিন ওপরের ঘণ্টা প্রতি অঙ্ক থেকে, অথবা জ্বালানির লগ, সার্ভিসের ইনভয়েস আর যন্ত্রাংশের রসিদ থেকে। H নিন যন্ত্রের আওয়ার মিটার থেকে, সময়ের শুরু আর শেষে পড়ে।
হিসাবে ধরুন কাজ হওয়া ঘণ্টা, হাতে থাকা ঘণ্টা নয়। সারা দিন সাইটে থাকা যন্ত্র হয়তো দিনের একটা অংশই কাজ করে।
একটা উদাহরণ ধরুন। যন্ত্রটা প্রথম বছর H ঘণ্টা কাজ করল, দ্বিতীয় বছর H ÷ 2 ঘণ্টা। দুই বছরেই মালিকানা খরচ A সমান। চালানোর খরচ ঘণ্টার সঙ্গে চলে বলে B নেমে হয় B ÷ 2। সহজ রাখতে C বাদ দিলাম।
| কাজের ঘণ্টা | মালিকানা খরচ | চালানোর খরচ | প্রতি কর্মঘণ্টার খরচ | |
|---|---|---|---|---|
| প্রথম বছর | H | A | B | A ÷ H + B ÷ H |
| দ্বিতীয় বছর | H ÷ 2 | A | B ÷ 2 | 2A ÷ H + B ÷ H |
প্রতি ঘণ্টায় মালিকানার অংশ দ্বিগুণ হয়ে গেল, চালানোর অংশ মোটামুটি একই থাকল। কাজ কমলে মালিকানা খরচ কমে না।
দুটো ভুল এড়াবেন:
- সময় গুলিয়ে ফেলা। A, B, C আর H একই সময়ের হতে হবে, যেমন একই বারো মাসের।
- অলস সময় দুবার ধরা। অলস দিনগুলো তো H-কে আগেই কমিয়েছে। আবার তার জন্য আলাদা খরচের লাইন যোগ করবেন না।
জেনে রাখুন. ভাড়া আর কেনার তুলনা করতে নিজের যন্ত্রের জন্য এই সূত্র চালান, তারপর ফলটা ভাড়ার কোটেশনের সঙ্গে মেলান। সিদ্ধান্তের জন্য পড়ুন ভারী যন্ত্রপাতি ভাড়া নাকি কেনা।
মাটি, গরম আর ধুলো খরচে কী পরিবর্তন আনে?
আপনার সাইটই সূত্রের সংখ্যাগুলো বদলে দেয়, তাই নিজের রেকর্ড ব্যবহার করুন।
মাটি। ট্র্যাক, টায়ার, বাকেট আর কাটার এজের ক্ষয় মাটির ওপর অনেকটা নির্ভর করে। নরম মাটির চেয়ে পাথর আর ঘষা-লাগানো বালিতে এসব অংশ দ্রুত ক্ষয় হয়। পাথুরে জমিতে কাজ করা যন্ত্রের ক্ষয়ে যাওয়া অংশ হয়তো ঘনঘন বদলাতে হয়, ফলে B বাড়ে।
গরম, ধুলো আর বালি। এতে কুলিং, এয়ার ফিল্টার আর পরিষ্কারের কাজ বাড়ে। এমন পরিবেশে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবধান মৃদু আবহাওয়ার চেয়ে প্রায়ই ছোট হয়। কঠিন পরিবেশের জন্য প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মানুন, আর আপনার সাইটের জন্য সাপ্লায়ার কোন ব্যবধান সুপারিশ করে তা জিজ্ঞাসা করুন। সুরক্ষার অভ্যাসগুলো জানতে পড়ুন ধুলো, বালি আর অতিরিক্ত গরম থেকে যন্ত্র বাঁচানো।
| পরিবেশ | কী লিখে রাখবেন |
|---|---|
| পাথর বা ঘষা-লাগানো বালি | ক্ষয়ে যাওয়া অংশ বদলানোর মাঝে কত ঘণ্টা |
| গ্রীষ্মের গরম | অতিরিক্ত গরমে বন্ধ হওয়া আর পরিষ্কারের সময় |
| ধুলো ও বালি | প্রতি সময়ে ফিল্টার বদলানো কতবার |
প্রতিটি যন্ত্রের জন্য একটা সহজ লগ রাখুন। বদলানোর মাঝের ঘণ্টা থেকে ওপরের ক্ষয় ও সার্ভিসের অঙ্ক বেরিয়ে আসে। এক বছর পর সব সাধারণ অনুমানের জায়গায় আপনার নিজের সংখ্যা থাকবে।
মাদায় (Maedah) এটা কীভাবে কাজে লাগাবেন
সাপ্লায়ারের দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক রেটের সঙ্গে তুলনা করতে নিজের প্রতি কর্মঘণ্টার খরচকে ওই সময়ে যত ঘণ্টা কাজ হবে বলে ধরছেন তা দিয়ে গুণ করুন। তারপর কোটেশনে কী কী ধরা আছে মিলিয়ে দেখুন। ছবি, স্পেসিফিকেশন ও সার্টিফিকেট দেখতে ঘুরে আসুন মাটি কাটার যন্ত্রপাতি, উত্তোলন যন্ত্রপাতি বা বিদ্যুৎ যন্ত্রপাতি পাতায়।
এরপর যন্ত্র, শহর, মানচিত্রে সাইট আর তারিখ দিয়ে রিকোয়েস্ট পোস্ট করুন। সাপ্লায়াররা সিল করা কোটেশন পাঠায়, পাশাপাশি সাজানো থাকে। কোটেশনে কী ধরা আছে বুঝতে পড়ুন ভাড়ার রেটে কী ধরা থাকে, কী আলাদা লাগে। দাম আর পেমেন্ট সাপ্লায়ারের সঙ্গে সরাসরি ঠিক করুন।





