আপনি গুদাম, ইয়ার্ড বা কারখানা সামলান। কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের জন্য ফর্কলিফট ভাড়া নিতে হবে, কিন্তু আপনার সাইটে ডিজেল, ইলেকট্রিক না এলপিজি চলবে, ঘরের ভেতরে আর বাইরে কোনটি ঠিক, তা নিয়ে দ্বিধা আছে। পাওয়ার টাইপ ঠিক করে দেয় ট্রাক কোথায় ঢুকতে পারবে, প্রথম দিন কী তৈরি থাকতে হবে, আর আপনার শিফট-পরিকল্পনা টিকবে কি না। এই গাইডে একটি সিদ্ধান্তের ছক আর সাপোর্টের চেকলিস্ট আছে।
ডিজেল, এলপিজি আর ইলেকট্রিক ফর্কলিফটের পার্থক্য কী?
তিনটির পার্থক্য তিন জায়গায়: কী পোড়ে, ধোঁয়া কোথায় যায়, আর ট্রাকের পাশে কী দাঁড় করাতে হয়।
| ডিজেল | এলপিজি | ইলেকট্রিক | |
|---|---|---|---|
| শক্তির উৎস | ডিজেল জ্বালানি | গ্যাস সিলিন্ডার | চার্জ করা ব্যাটারি |
| ব্যবহারের জায়গায় ধোঁয়া | আছে | আছে, কার্বন মনোক্সাইডসহ | নেই |
| আওয়াজ | সাধারণত বেশি | সাধারণত মাঝারি | সাধারণত কম |
| সাধারণত বাছা হয় | খোলা ইয়ার্ড, এবড়োখেবড়ো মাটি, ভারী ক্ষমতার কাজে | ভেতর-বাইরে মেশানো সাইটে | ঘরের ভেতরে, খাদ্য ও পরিষ্কার এলাকার কাজে, মসৃণ মেঝেতে |
| সাইটে যা লাগে | জ্বালানির জোগান | সিলিন্ডার রাখার জায়গা ও বদলানোর ব্যবস্থা | মানানসই চার্জার ও চার্জ দেওয়ার জায়গা |
ছকে ধরা পড়ে না, এমন দুটি কথা। এলপিজি ট্রাক চলে গ্যাস সিলিন্ডারে, প্রশিক্ষিত লোক তা অল্প সময়েই বদলে নিতে পারেন, আর অনেক সাইটে ভেতরে-বাইরে দুই জায়গাতেই চলে। তবু ধোঁয়া ছাড়ে, তাই বন্ধ জায়গায় ভেন্টিলেশন লাগে। ইলেকট্রিক ট্রাক নির্ভর করে চার্জ করা ব্যাটারি আর তার সঙ্গে মেলে, এমন চার্জারের ওপর।
ঘরের ভেতরে, লোডিং ডকে আর খোলা ইয়ার্ডে কোন ফর্কলিফট চলবে?
জায়গা আর শিফটের ধরন একসঙ্গে দেখুন। নিচের ছক শুরুর আন্দাজ, চূড়ান্ত নিয়ম নয়। শেষ কথা বলবেন আপনার সাইট মালিক ও বিমা কোম্পানি।
| ট্রাক কোথায় কাজ করবে | সাধারণ প্রথম পছন্দ | কেন | কীসের দিকে নজর রাখবেন |
|---|---|---|---|
| বন্ধ গুদাম, মসৃণ মেঝে | ইলেকট্রিক | ধোঁয়া নেই, আওয়াজ কম | চার্জ দেওয়ার জায়গা ও শিফট-পরিকল্পনা |
| খাদ্য বা পরিষ্কার এলাকা | ইলেকট্রিক | ব্যবহারের জায়গায় ধোঁয়া নেই | মেঝে মসৃণ হওয়া চাই |
| লোডিং ডক, ট্রেলারের ভেতরে-বাইরে | এলপিজি, আর ডক ঢাকা ও মসৃণ হলে ইলেকট্রিক | ভেতরে-বাইরে দুই জায়গাতেই চলে | ডকের দরজা খোলা থাকলেও ট্রেলারের ভেতরে ধোঁয়া জমতে পারে |
| খোলা ইয়ার্ড, শক্ত সমতল মাটি | ডিজেল বা এলপিজি | বাইরের কাজ, জ্বালানি ভরা সহজ | ধুলো ও গরম |
| এবড়োখেবড়ো বা বালুময় সাইট | ডিজেল, সাধারণত নিউম্যাটিক টায়ারসহ | অসমতল মাটিতে বাইরের কাজ | নরম বালু বা খুব এবড়োখেবড়ো মাটিতে রাফ-টেরেন ফর্কলিফট বা টেলিহ্যান্ডলার লাগতে পারে। সাপ্লায়ারকে জিজ্ঞেস করুন |
| কোল্ড স্টোর | ইলেকট্রিক | বদ্ধ জায়গায় ধোঁয়া নেই | ট্রাক ওই তাপমাত্রায় চলে কি না, সাপ্লায়ারকে জিজ্ঞেস করুন |
| দিনে একটি শিফট | জায়গা দেখে যেকোনোটি | রাতে চার্জ দেওয়ার সময় মেলে | চার্জিং পয়েন্ট তৈরি থাকতে হবে |
| দুই বা তিনটি শিফট | ডিজেল বা এলপিজি, অথবা বাড়তি ব্যাটারিসহ ইলেকট্রিক | চার্জের জন্য লম্বা বিরতি লাগে না | চার্জ দেওয়ার সময়সূচি এবং ব্যাটারি বদলের জায়গা ও সরঞ্জাম |
ভুল সবচেয়ে বেশি হয় ডকে। যে ট্রাক দিনের বেশির ভাগ সময় আধা-ট্রেলারের ভেতরে থাকে, সে বন্ধ জায়গায় কাজ করছে, ডকের দরজা খোলা থাকলেও। একে ঘরের ভেতরের কাজ ধরে নিন।
মেশানো সাইটে দিনের সবচেয়ে কঠিন অংশ ধরে প্রতিটি পাওয়ার টাইপ যাচাই করুন:
- যে বন্ধ জায়গায় ঠিকমতো ভেন্টিলেশন দেওয়া যায় না, সেখানে ডিজেল ও এলপিজি বাদ।
- যেখানে মাটি এবড়োখেবড়ো বা বালুময়, সেখানে কুশন টায়ারের ট্রাক বাদ।
- এক চার্জে যত সময় চলে, শিফট তার চেয়ে লম্বা হলে আর চার্জের বিরতি বা বাড়তি ব্যাটারি না থাকলে ইলেকট্রিক বাদ।
যা বাকি থাকে, সেটাই আপনার তালিকা। কিছু না থাকলে সাইটে দুটি ট্রাক লাগতে পারে, যেমন একটি ভেতরে, একটি ইয়ার্ডে।
সতর্কতা. ঠিকমতো ভেন্টিলেশন ছাড়া বন্ধ জায়গায় ডিজেল বা এলপিজি ট্রাক কখনো চালাবেন না। কার্বন মনোক্সাইড বিপজ্জনক, আর তা দেখা বা গন্ধে টের পাওয়া যায় না।
জ্বালানি, গ্যাস সিলিন্ডার বা চার্জিং পয়েন্ট: সাইটে কী তৈরি রাখবেন?
ট্রাক আর তার সাপোর্ট একসঙ্গে অর্ডার করুন। যে ট্রাক এসে চালানোর কিছু পায় না, তাতে সাইটের একটা দিন নষ্ট।
ডিজেল
- জ্বালানি রাখার ও দেওয়ার জায়গা, অথবা যে সাপ্লায়ার সাইটে এসে তেল ভরে দেন।
- রোজকার তেল ভরার দায়িত্ব কার, তা পরিষ্কার থাকা চাই। জেনারেটরেও একই প্রশ্ন ওঠে, দেখুন জেনারেটরের জ্বালানি পরিকল্পনা।
এলপিজি
- সিলিন্ডার রাখার নির্দিষ্ট জায়গা। সিলিন্ডার সাধারণত খাড়া করে রাখা হয়, বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায়, তাপ ও আগুন ধরার উৎস থেকে দূরে।
- মজুত ও নাড়াচাড়ায় সাপ্লায়ার ও সাইট মালিকের নিয়ম মানুন, এবং এলপিজি রাখার স্থানীয় শর্ত থাকলে তাও।
- সিলিন্ডার বদলাতে প্রশিক্ষিত একজন লোক, আর ভরা সিলিন্ডার কে জোগাবে, তার পরিকল্পনা।
ইলেকট্রিক
- চার্জারের জন্য উপযুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহসহ একটি চার্জিং পয়েন্ট। চার্জারের কী লাগে, সাপ্লায়ারকে জিজ্ঞেস করুন।
- চার্জ দেওয়ার জায়গায় বাতাস চলাচল চাই। লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি চার্জের সময় হাইড্রোজেন ছাড়ে, তাই খোলা আগুন, ধূমপান ও স্ফুলিঙ্গ দূরে রাখুন। ট্রাকে কোন ধরনের ব্যাটারি, সাপ্লায়ারকে জিজ্ঞেস করুন।
- চার্জের সময়সূচিসহ শিফট-পরিকল্পনা, অথবা বাড়তি ব্যাটারি। ট্রাক, ব্যাটারি ও চার্জার কীভাবে সাজানো, সাপ্লায়ারকে জিজ্ঞেস করুন।
পরামর্শ. সাপ্লায়ারকে জিজ্ঞেস করুন: "ট্রাক আসার আগে সাইটে কী তৈরি থাকতে হবে?" উত্তরটি রিকোয়েস্টে লিখে দিন। অপারেটর ওই ট্রাক চালানোর জন্য প্রশিক্ষিত ও অনুমোদিত কি না, তাও নিশ্চিত করুন।
টায়ার আর মেঝের ধরন বাছাইয়ে কী পরিবর্তন আনে?
মেঝেতে ট্রাক মানাবে কি না, ঠিক করে টায়ার। সাধারণ দুই ধরন:
- কুশন (সলিড) টায়ার। মসৃণ ঘরের মেঝেতে ইলেকট্রিক ট্রাকে প্রায়ই এটি থাকে। এবড়োখেবড়ো, ভেজা বা ভাঙা মাটিতে এটি ভালো চলে না।
- নিউম্যাটিক টায়ার। বাইরে বা অসমতল মাটির জন্য ডিজেল ও এলপিজি ট্রাকে প্রায়ই এটি লাগানো থাকে।
প্রচলিত ভুল হলো "বেশির ভাগ ভেতরে" বলে ইলেকট্রিক ট্রাক নেওয়া, অথচ সাইটে একটি এবড়োখেবড়ো ইয়ার্ড পার হতে হয় বা ঢালু র্যাম্প আছে। সমাধান সহজ: গড় মেঝে নয়, ট্রাক যে সবচেয়ে খারাপ তলে পড়বে সেটি বলুন। মেঝে বা মাটি এবড়োখেবড়ো হলে বুকিংয়ের আগে সাপ্লায়ারের কাছে টায়ারের ধরন নিশ্চিত করে নিন।
ট্রাক ভেতর আর বাইরের মধ্যে কতটা পথ চলবে, তাও জানান। এবড়োখেবড়ো ইয়ার্ড পেরিয়ে বারবার যাওয়ার দরকার হলে হয় অন্য ট্রাক বাছুন, নয়তো মাল হস্তান্তরের একটি জায়গা ঠিক করুন।
সৌদির গরম বাছাই ও শিফট-পরিকল্পনায় কী প্রভাব ফেলে?
গরম, ধুলো আর বালু সব পাওয়ার টাইপকেই প্রভাবিত করে। ধরে না নিয়ে সাপ্লায়ারকে জিজ্ঞেস করুন।
- গ্রীষ্মের শিফট। কিছু সাইটে গ্রীষ্মে কাজের সময় বদলায়। শিফট আগে বা পরে সরলে চার্জ দেওয়া বা তেল ভরার সময়ও বদলে যায়।
- গরমে চার্জ দেওয়া। চার্জ দেওয়ার জায়গায় বাতাস চলাচল চাই। ব্যাটারি ও চার্জার গরম ও ধুলোময় পরিবেশে চলে কি না, সাপ্লায়ারকে জিজ্ঞেস করুন।
- ধুলো ও বালু। খোলা ইয়ার্ডে ধুলো ইঞ্জিন ও ফিল্টারে ঢোকে (দেখুন ধুলো, বালু ও অতিরিক্ত গরম থেকে মেশিন বাঁচানো)। সার্ভিস ও ফিল্টার বদল সাপ্লায়ার কীভাবে সামলান, জিজ্ঞেস করুন।
- গ্যাস সিলিন্ডার। নির্দিষ্ট মজুত-জায়গায় রাখুন, তাপ ও রোদ থেকে দূরে।
ধোঁয়া ও ঘরের ভেতরে চালানো নিয়ে শর্ত সাইট মালিক, বিমা কোম্পানি ও পৌরসভাভেদে আলাদা। ট্রাক সাইটে আসার পরে নয়, পাওয়ার টাইপ বাছার আগেই তা জেনে নিন।
রিকোয়েস্টে কী লিখলে সঠিক ট্রাকটি আসবে?
ট্রাক কী তুলবে শুধু তা নয়, কোথায় কাজ করবে সেটিও বলুন। এগুলো রাখুন:
- জায়গা: ঘরের ভেতর, ডক, খোলা ইয়ার্ড, এবড়োখেবড়ো মাটি, কোল্ড স্টোর।
- মেঝে বা মাটি: মসৃণ, অসমতল, বালুময়, র্যাম্প।
- শিফট: দিনে কয়টি, আর ট্রাক কখন বসে থাকতে পারে।
- সাইটের সাপ্লাই: চার্জিং পয়েন্ট, গ্যাস রাখার জায়গা, জ্বালানি, অথবা এখনো কিছু নেই।
- ঘরের ভেতরে চালানো বা ধোঁয়া নিয়ে সাইট মালিক বা আপনার বিমা কোম্পানির কোনো নিয়ম।
- মেঝে মসৃণ না হলে টায়ারের ধরন।
ক্ষমতা, মাস্টের উচ্চতা আর গলির প্রস্থ আলাদা সিদ্ধান্ত। দেখুন ক্ষমতা, মাস্টের উচ্চতা ও গলি দেখে ফর্কলিফট ভাড়া। কাউন্টারব্যালান্স না রিচ ট্রাক, এমন ট্রাকের ধরন নিয়ে এখনো দ্বিধায় থাকলে পড়ুন ফর্কলিফটের ধরন ও কীভাবে বাছবেন।
Maedah-তে কীভাবে করবেন
একটি রিকোয়েস্ট খুলে ফর্কলিফট বেছে নিন। শহর, ম্যাপে সাইটের অবস্থান, তারিখ ও ট্রাকের সংখ্যা দিন। বিবরণে লিখুন কোন পাওয়ার টাইপ চান বা ট্রাক কোথায় চলবে, মেঝের ধরন আর শিফটের ধরন।
সাপ্লায়াররা সিল করা কোটেশন পাঠান, যা পাশাপাশি সাজানো থাকে। প্রতিটিতে কী ধরা আছে, যেমন চার্জার, বাড়তি ব্যাটারি বা সিলিন্ডার, তা মিলিয়ে দেখুন। সঙ্গে দেখে নিন ভাড়ার রেটে কী ধরা থাকে, কী আলাদা লাগে। সাইটকে যে সাপোর্ট দিতে হবে তা চ্যাটে নিশ্চিত করুন, আর দাম ও পেমেন্ট সাপ্লায়ারের সঙ্গে ঠিক করুন।




