আপনি হয়তো অপারেটর, কিংবা যে সুপারভাইজার শিট সই করেন, অথবা ভাড়া নেওয়া গাড়ির ভাড়াটিয়া। এই ফর্কলিফট প্রি-স্টার্ট চেকলিস্টে প্রতিটি পরীক্ষায় ফেল করলে কী দেখা যায় এবং কখন গাড়ির কাজ থামাতে হবে, তা বলা আছে। শেষে চালানোর দশটি নিয়ম।
প্রতি শিফটের আগে ফর্কলিফট কেন পরীক্ষা করবেন?
দুই শিফটের মাঝেও ত্রুটি দেখা দিতে পারে: হোস লিক করে, ফর্কে ফাটল ধরে, টায়ার কেটে যায়। তাই প্রতি শিফটের প্রথম ব্যবহারের আগে দেখুন। গাড়ি হাত বদল হলেও আবার দেখুন, কারণ নতুন চালক জানেন না শেষ পরীক্ষার পর কী ঘটেছে।
পরীক্ষায় কয়েক মিনিট লাগে। তারিখ, গাড়ির নম্বর ও পাওয়া ত্রুটি লিখে রাখুন। প্রকল্প, সাইট মালিক, পৌরসভা ও বিমাকারীভেদে শর্ত আলাদা হয়, তাই কাজ শুরুর আগে কোনটি প্রযোজ্য তা নিশ্চিত করে নিন।
হাঁটার ক্রমে কী দেখবেন: টায়ার, ফর্ক, মাস্ট, চেইন, লিক?
বাইরে থেকে শুরু করুন। ইঞ্জিন বন্ধ, গাড়ি সমতল মাটিতে।
| কী দেখবেন | ত্রুটি দেখতে কেমন | কী করবেন |
|---|---|---|
| টায়ার ও হুইল নাট | কাটা দাগ, খাবলা ওঠা অংশ, পাংচার, কম বাতাস, ঢিলা নাট, ট্রেডে আটকে থাকা বস্তু | পাংচার, গভীর কাটা, খাবলা ওঠা বা ঢিলা হুইল নাট: চালাবেন না, ট্যাগ করে বন্ধ করুন। বায়ুচাপ কম (নিউম্যাটিক টায়ারে): জানান (প্রস্তুতকারকের মান দেখুন; গরমে চাপ বাড়ে)। ট্রেডে বস্তু: জানান। |
| ফর্ক | ফাটল (হিল, ব্লেড ও শ্যাঙ্ক যেখানে মেলে সেই কোণ, ওয়েল্ড), বাঁকা, হিল ক্ষয়, দুই ফর্কের উচ্চতা অসমান বা ক্ষয় আলাদা | ট্যাগ করে বন্ধ করুন। সাইটে কখনো ফর্ক সোজা বা ওয়েল্ড করবেন না। |
| ফর্ক লকিং পিন | নেই, বাঁকা বা আটকানো নেই | ব্যবহারের আগে লাগান বা বদলান। |
| মাস্ট ও ক্যারেজ | ফাটল, বাঁকা রেল, ঢিলা বোল্ট | ক্ষতি থাকলে ট্যাগ করে বন্ধ করুন। |
| লিফট চেইন | ভাঙা বা ফাটা লিঙ্ক, মরচে, শুকনো চেইন, একটি চেইন অন্যটির চেয়ে লম্বা | ভাঙা বা ফাটা লিঙ্ক, অথবা একটি চেইন স্পষ্টতই লম্বা: ট্যাগ করে বন্ধ করুন। মরচে বা শুকনো চেইন: জানান, যাতে তেল দেওয়া বা বদলানো হয়। |
| হাইড্রোলিক হোস ও সিলিন্ডার | কাটা, ফোলা, ঘষা খাওয়া দাগ, ভেজা জায়গা | কাটা, ফোলা, বা হাইড্রোলিক তরলের কোনো ভেজা ভাব বা ফোঁটা: ট্যাগ করে বন্ধ করুন। ভেজা ছাড়া হালকা ঘষার দাগ: জানান। |
| হাইড্রোলিক তেলের লেভেল | ট্যাংক বা ডিপস্টিকের নিচের দাগের নিচে | জানান। অজানা তেল ঢালবেন না; কোনটি লাগবে সাপ্লায়ারকে জিজ্ঞেস করুন। |
| গাড়ির নিচের মেঝে | তেল, জ্বালানি, কুল্যান্ট বা হাইড্রোলিক তরলের তাজা ফোঁটা বা জমা | যেকোনো তরলের (হাইড্রোলিক, জ্বালানি, ইঞ্জিন অয়েল, কুল্যান্ট) তাজা ভেজা ভাব বা জমা: ট্যাগ করে বন্ধ করুন। ধুলোয় ঢাকা শুকনো দাগ, তাজা তরল নেই: জানান। |
| ওভারহেড গার্ড ও লোড ব্যাকরেস্ট | ফাটল, বাঁকা, বোল্ট নেই, খুলে ফেলা অংশ | ট্যাগ করে বন্ধ করুন। এগুলো ছাড়া গাড়ি নিরাপদ নয়। |
টায়ার ও ফর্কের ক্ষয় চোখের আন্দাজে নয়, প্রস্তুতকারকের সীমা দিয়ে বিচার করুন। সীমা না জানলে সাপ্লায়ারকে জিজ্ঞেস করুন।
পাওয়ার সোর্সে কী দেখবেন: জ্বালানি, ইঞ্জিন, গ্যাস সিলিন্ডার বা ব্যাটারি?
ডিজেল বা পেট্রোল ইঞ্জিনের গাড়ি
- ইঞ্জিন অয়েল ও কুল্যান্ট ঠিক লেভেলে আছে কি না, আর ইঞ্জিনের আশপাশে লিক আছে কি না। কুল্যান্ট দেখুন ইঞ্জিন ঠান্ডা থাকলে; গরম রেডিয়েটরের ক্যাপ কখনো খুলবেন না।
- শিফট চালানোর মতো জ্বালানি আছে কি না, আর জ্বালানির গন্ধ বা ভেজা দাগ নেই তো।
- রেডিয়েটর ধুলোয় বন্ধ হয়নি তো। গরম ও ধুলোময় সাইটে এটা জরুরি।
এলপিজি (LPG) গাড়ি
- ওপরের ইঞ্জিন-পরীক্ষাগুলোও প্রযোজ্য।
- গ্যাস সিলিন্ডার ব্র্যাকেটে শক্ত করে বসানো আছে কি না, আর ফিটিং ও পাইপ অক্ষত কি না।
- গ্যাসের গন্ধ পেলে গাড়ি স্টার্ট দেবেন না, আগুন ধরানোর উৎস দূরে রাখুন। সিলিন্ডার বদলান শুধু প্রশিক্ষিত লোক।
ইলেকট্রিক গাড়ি
- ব্যাটারির কেস ও তার অক্ষত, কানেক্টর পুরো ঢোকানো, আর চার্জ পুরো শিফটের জন্য যথেষ্ট কি না।
- ব্যাটারির তরল পূরণ বা চার্জ দেওয়া শুধু প্রশিক্ষিত লোকের কাজ।
সিটে বসে কী দেখবেন: ব্রেক, স্টিয়ারিং, হর্ন, লাইট, সিট বেল্ট?
ধাপ ও হাতলে ভর দিয়ে উঠুন।
- সিট বেল্ট। থাকতে হবে, পরিষ্কার ও কার্যকর। প্রতিবার চালানোর সময় বেঁধে নিন।
- ইনস্ট্রুমেন্ট। স্টার্টের পর ওয়ার্নিং লাইট নিভে যাওয়া উচিত, শুধু অবস্থা বোঝানো লাইট ছাড়া, যেমন পার্কিং ব্রেক দেওয়া আছে। কোনো ত্রুটির লাইট জ্বলে থাকলে জানান। অয়েল-প্রেশার বা অতিরিক্ত গরমের সতর্কতা হলে দক্ষ কেউ দেখার আগে কাজ করবেন না।
- পার্কিং ব্রেক। লাগিয়ে প্রস্তুতকারকের পরীক্ষা অনুসরণ করুন। ম্যানুয়ালে না থাকলে: সিট বেল্ট বাঁধা, এলাকা খালি, গাড়ি খালি, ড্রাইভ গিয়ার দিয়ে লাগানো ব্রেকের বিপরীতে আস্তে পাওয়ার দিন। গাড়ি নড়লে ট্যাগ করে বন্ধ করুন।
- সার্ভিস ব্রেক। খালি জায়গায় ধীর গতিতে পরীক্ষা করুন। প্যাডেল অতিরিক্ত নেমে যাওয়া, নরম লাগা বা এক পাশে টানা মানেই ত্রুটি।
- স্টিয়ারিং। মসৃণ লাগবে, ফাঁকা নড়াচড়া বা শক্ত জায়গা থাকবে না।
- হর্ন, লাইট, বিকন ও রিভার্সিং অ্যালার্ম। যেগুলো লাগানো আছে সবই কাজ করবে, আর হর্নের আওয়াজ সাইটের শব্দ ছাপিয়ে শোনা যাবে।
- ডেটা প্লেট। আটকানো ও পড়ার মতো থাকতে হবে, কারণ তাতে রেটেড ক্ষমতা ও কোন লোড সেন্টারে তা প্রযোজ্য সেটা লেখা থাকে। প্লেট না থাকলে গাড়ি ব্যবহার করবেন না।
- দৃশ্যমানতা। আয়না, উইন্ডস্ক্রিন ও ক্যামেরা (থাকলে) পরিষ্কার ও অক্ষত, যাতে চলার পথ দেখা যায়।
মাল তোলার আগে লিফট, টিল্ট ও হাইড্রোলিক কীভাবে পরীক্ষা করবেন?
আশপাশে কেউ না থাকলে এবং গাড়ি খালি অবস্থায় ফর্ক প্রায় ওপর পর্যন্ত তুলে নামান। তারপর মাস্ট ধীরে পুরো সামনে ও পেছনে টিল্ট করুন। ঘষার, কিচকিচ বা ঠকঠক আওয়াজ শুনুন। ঝাঁকুনি, ধরে রাখলে ফর্ক ধীরে নেমে যাওয়া, বা ধীর সাড়া আছে কি না দেখুন।
হাইড্রোলিক ধীর বা দুর্বল হলে তেল কম, লিক বা ক্ষয়ে যাওয়া অংশ হতে পারে: জানান।
টেলিহ্যান্ডলারে মাস্টের বদলে বুম থাকে। বুম, স্টেবিলাইজার ও অ্যাটাচমেন্ট পরীক্ষায় এর ম্যানুয়াল এবং নিজস্ব লোড চার্ট দেখুন।
পরামর্শ. লিফট পরীক্ষায় পাস করার পরই প্রথম মাল তুলুন। ওজনের সীমার জন্য দেখুন ফর্কলিফটের ক্ষমতা ও লোড সেন্টার।
ত্রুটি পেলে কী করবেন?
একটাই নিয়ম: হাঁটার ক্রমের টেবিলে "ট্যাগ করে বন্ধ করুন" লেখা কোনো বিষয় পেলে, নিচের তালিকার কিছু পেলে, বা ব্রেক বা স্টিয়ারিং ঠিক না লাগলে গাড়ির কাজ বন্ধ। এগুলোতেও ট্যাগ করে বন্ধ করুন:
- সিট বেল্ট, হর্ন, রিভার্সিং অ্যালার্ম বা বিকন (যেটা লাগানো আছে) না থাকা বা নষ্ট;
- ডেটা প্লেট না থাকা বা পড়া না যাওয়া;
- ব্যাটারির কেস বা তার ক্ষতিগ্রস্ত;
- গ্যাস বা জ্বালানির যেকোনো গন্ধ।
মরচে, শুকনো চেইন, হালকা ঘষার দাগ বা নোংরা আয়না হলে শুধু জানান।
- ফর্ক নামিয়ে নিরাপদ জায়গায় থামান, বন্ধ করুন, পার্কিং ব্রেক দিন এবং চাবি খুলে নিন।
- তারিখ ও ত্রুটির সংক্ষিপ্ত নোটসহ "ব্যবহার করবেন না" ট্যাগ লাগান।
- সুপারভাইজারকে এবং সাপ্লায়ার বা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণকারী কোম্পানিকে জানান।
- দক্ষ কেউ মেরামত করে ঠিক হয়েছে নিশ্চিত না করা পর্যন্ত গাড়ি কাজের বাইরে রাখুন।
ছোটখাটো বিষয়ও জানান; কাজ চলবে কি না সুপারভাইজার ঠিক করবেন। সন্দেহ হলে নিরাপত্তার ত্রুটি ধরে নিন। সাবধানে চালালেও দুর্বল ব্রেকের গাড়ি নিরাপদ হয় না। যেকোনো মেশিনের জন্য একই রুটিন চান? পড়ুন দৈনিক ওয়াক-অ্যারাউন্ড পরিদর্শন ও ত্রুটির রিপোর্ট।
গাড়ি চালু হওয়ার পর নিরাপদে চালানোর কোন নিয়মগুলো মানবেন?
এই দশটি নিয়ম মৌলিক বিষয়গুলো ধরে। পুরো নিয়ম, এমনকি কে গাড়ি চালাতে পারবে, ঠিক করে সাইট মালিক ও নিয়োগকর্তা; দেখুন অপারেটরের দক্ষতা কীভাবে যাচাই করবেন।
- সিট-ডাউন গাড়িতে বেল্ট বাঁধা রাখুন, হাত-পা কাঠামোর ভেতরে। গাড়ি উল্টে গেলে সিটেই থাকুন ও শক্ত করে ধরুন; লাফিয়ে নামবেন না। স্ট্যান্ড-অন বা রিচ ট্রাকে ম্যানুয়াল অনুসরণ করুন।
- মাল নিচু ও পেছনে হেলানো রেখে বহন করুন, ফর্ক মাটি থেকে সামান্য ওপরে।
- ডেটা প্লেটের রেটেড ক্ষমতার মধ্যে থাকুন। গাড়ির পেছনে কখনো বাড়তি ওজন চাপাবেন না।
- কখনো যাত্রী নেবেন না, ফর্কে কাউকে তুলবেন না।
- মোড়, র্যাম্প, ভেজা মেঝে ও এবড়োখেবড়ো জায়গায় গতি কমান।
- র্যাম্পে মাল থাকলে সেটা রাখুন ঢালের ওপর দিকে: ওঠার সময় সামনের দিকে, নামার সময় পেছনের দিকে চালিয়ে। ঢালে ঘুরবেন না।
- মালের কারণে সামনে দেখা না গেলে পেছন দিকে চালান বা ব্যাংকসম্যান নিন।
- অন্ধ মোড়, দরজা ও গলির মোড়ে হর্ন দিন।
- মাস্টের ভেতর দিয়ে হাত ঢোকাবেন না, ওঠানো ফর্কের নিচে কাউকে দাঁড়াতে দেবেন না।
- ফর্ক ওঠানো বা ইঞ্জিন চালু রেখে গাড়ি ছেড়ে যাবেন না।
পথচারীকে উত্তোলন ও চলার পথের বাইরে রাখুন এবং অন্ধ মোড়ে ব্যাংকসম্যান রাখুন; কীভাবে, তা আছে ব্যাংকসম্যান ও এক্সক্লুশন জোন গাইডে।
মাইদাহতে এটা কীভাবে কাজে লাগাবেন
ফর্কলিফট ভাড়া নিতে আপনার রিকোয়েস্টে মেশিনের ধরন, শহর, সাইট ও তারিখ দিন এবং জানান ডিজেল, এলপিজি না ইলেকট্রিক লাগবে। দেখতে পারেন ফর্কলিফট বা টেলিহ্যান্ডলার।
প্রতিটি কোটেশনে কী কী ধরা আছে মিলিয়ে দেখুন, আর চ্যাটে চলতি পরিদর্শন সার্টিফিকেট, সার্ভিস রেকর্ড এবং ত্রুটি হলে কাকে ফোন করবেন তা চেয়ে নিন। গাড়ি পৌঁছালে হ্যান্ডওভার ও ফেরতের চেকলিস্ট ব্যবহার করুন, তারপর প্রথম ব্যবহারের আগে এই পরীক্ষা চালান।





